জয়া: রিলেশনে আছি কিন্তু বিয়ের বয়স হয়নি এখনও!

টাইমস অব ইন্ডিয়ায় এক সাক্ষাৎকারে জয়া আহসানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনি বাংলাদেশে একজনের স’ঙ্গে ডেটিং করছেন। আগামী বছর কি সেটেল হবেন? জয়া: ও। কে বলছে এসব আমা’র সম্পর্কে?তাহলে আপনি কি গু’জব হিসেবে এটাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন?জয়া: না। আমি একটি রিলেশনশিপে আছি।

তিনি বাংলাদেশেরই। কিন্তু তিনি ইন্ডাস্ট্রির কেউ না।বর্তমানে বিয়ে কিছু ভাবছেন?জয়া: আমি ডেটিং করছি আপাতত। কিন্তু সেটা এখনও বিয়ে পর্যন্ত গড়ানোর চিন্তায় আসেনি। নিজের বিয়ের প্রস’ঙ্গে খোলামেলা এভাবেই কথাগু’লো বলেছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অ’ভিনেত্রী জয়া আহসান। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব বলেন তিনি।

আরও পড়ুন : আশার আয়েই চলত সংসার, তিন বোনের লেখাপড়ার খরচ। অ’ভিনেত্রী আশা চৌধুরীই ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। সংসারের খরচ, তিন বোনের লেখাপড়া চালাতেন তিনি। আর ছিলেন মা–বাবার বেঁচে থাকার অবলম্বন। মা’রাত্মক সড়ক দু’র্ঘটনায় আশার মৃ’ত্যুতে অ’সহায় হয়ে পড়েছে তাঁর পরিবার। ‘মেয়েই আমা’র সংসারটা চালাত। মুহূর্তেই সংসারটা কানা করে দিয়ে গেল ঘা’তক ট্রাক। আমি এখন কীভাবে সংসার চালাব, কোনো কূলকিনারা দেখতে পারছি না।’ কথাগু’লো বলতে বলতে কেঁদে ফে’লেন আশার মা পারভিন আক্তার।

মিনিট খানেক কা’ন্নার পর বিলাপ করে বলতে থাকেন, ‘আমা’র আশা কই গেল। কই গেলি মা আশা।’ পাশ থেকে সমস্বরে দুই-তিনজনের কা’ন্নার শব্দ শোনা যায়। ধারণা করা যায়, তাঁরা আশার ছোট তিন বোন মিম, তিশা ও তিথি। বড় বোনকে হা’রিয়েছে, পড়াশোনা কীভাবে শেষ করবে তারা, নিজেরাও জানে না। তিন বোনকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি স্বপ্ন দেখতেন বড় বোন আশা। যেখানেই থাকুক, প্রতিদিন তিন থেকে চারবার ফোনে ছোট বোনদের খবর নিতেন তিনি।

চার বোন একত্রে আড্ডা দিতেন, খেতেন, ঘুরতে যেতেন। বড় বোন শুটিংয়ের কাজে বাইরে থাকলে অন্যরা জেগে তাঁর জন্য অ’পেক্ষা করত। এসব বলতে বলতে কা’ন্না থামিয়ে আশার মা বলেন, ‘আশার বাবার চাঁদনিচকে কাপড়ের দোকান ছিল। ক’রো’না ম’হা’মা’রির মন্দাবাজারে সেটা বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এখন সে ঘরে বসা। কোনো কাজ নেই। আমা’র মেয়ে বলত, “আব্বা তোমাকে কিছু করতে হবে না। সব আমা’র ও’পর ছেড়ে দাও।” মেয়েটা আমা’র চাকরি করত, পড়াশোনা করত, আবার অ’ভিনয়ে সময় দিত। কোনো বাজে আড্ডার স’ঙ্গে ছিল না, এতটুকু সময় ন’ষ্ট করত না।’বনানীতে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন আশা। পাশাপাশি আইন বি’ষয়ে পড়তেন। স্বপ্ন ছিল ম্যা’জিস্ট্রেট হবেন। সেই স্বপ্ন ৫ সেকেন্ডেই শেষ হয়ে যায়। ৩ জানুয়ারি ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে তিনি মা’রা যান। তাঁর স’ঙ্গে ম’রে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন। পারভিন আক্তার বলেন, ‘আশা বলত নাটক, সিনেমায় অনেক কিছু শেখানোর জিনিস থাকে। আমি সেসব নাটকে অ’ভিনয় করব। একদিন দেখবা পরিশ্রমে অনেক ও’পরে উঠব। আমা’দের সবকিছু হবে। সেই মেয়েটা প্রথমবারের মতো ভালো অ’ভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার দুই দিন পরে চিরতরে চলে গেল।’

২ জানুয়ারি আশা চৌধুরী অ’ভিনয় করেন ‘দ্য রিভেঞ্জ’ নাটকে। এই নাটকেই প্রথমবারের মতো প্রধান চরিত্রে অ’ভিনয় করেন আশা। তাঁর সহশিল্পী ছিলেন সালাহউদ্দিল লাভলু ও আনিসুর রহমান মিলন। নাটকটির পরিচালক ছিলেন রুমান রুনি। ছোট তিন বোন ছিল আশার ভীষণ আদরের। তাদের পড়াশোনাসহ সব খরচ দিতেন আশাই। আশার ছোট সুমাইয়া আক্তার মিম মিরপুর রূপনগর মডেল কলেজে পড়াশোনা করে। আশার সবচেয়ে আদরের ছিল সে। পরিবারের টানাপোড়েনের কারণে পড়াশোনা চা’লিয়ে যেতে পারবে কি না, সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে মিম। আশা তাকে সব সময় বলত, যেন চিন্তা না করে। সাহস দিত, ভবি’ষ্যতে তাকে বড় ইঞ্জিনিয়ার বানাবেন। সব সময় মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে বলতেন। সেই বোনকে হা’রিয়ে এখনো কা’ন্না থামছে না মিমের।বোনের ম’রদে’হ বাড়িতে যাওয়ার পর কাঁদতে কাঁদতে জ্ঞান হারাচ্ছিল মিম। বোনের শো’কে কাঁদতে কাঁদতে শা’রীরিক অবস্থার অ’বনতি হলে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাকে মিরপুরের একটি হাসপাতালে নিতে হয়। কা’ন্নাজড়ানো কণ্ঠে মিম জানায়, বড় বোনের স’ঙ্গে সে ঘু’মাত। পরীক্ষা বা শুটিংয়ের সময় সে নিজে বোনের ব্যাগ গু’ছিয়ে দিত। মিম বলে, ‘আপা আমাকে মন দিয়ে পড়তে বলত। টাকাপয়সা নিয়ে চিন্তা করতে নিষে’ধ করত। সেই বোনকে শেষবারের মতো দেখতেও পারলাম না’।

বিনোদন অ’ঙ্গনে কাজ করতে ভালোবাসতেন আশা। সে জন্য পরিবার থেকে কোনো বা’ধা ছিল না। শৈশবে শি’শুশিল্পী হিসেবে বিটিভিতে নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। প্রায় চার বছর আগে মূলধা’রার নাটকে কাজ শুরু করেন। নাটকে অ’ভিনয়, অনুষ্ঠান উপস্থাপনা ছাড়াও তিনি বিজ্ঞাপন ও গানের মডেল হয়েছেন তিনি। আশা খুবই পরিশ্রমী ও কর্মঠ ছিলেন। সে কারণে পরিবারের সবাই তাঁর সি’দ্ধান্তকেই গু’রুত্ব দিতেন। আশার সেজ বোন তাইয়েরা জান্নাত তিশা জানায়, তার বোন খেতে খুব পছন্দ করতেন। একটু মোটা বলে শুটিংয়ে অনেকেই তাঁকে ‘মোটা’ বলত। এ কারণে বেশ কিছুদিন ধরে আশা বাসায় খুব একটা খেতেন না। অ’ভিনয়শিল্পী হওয়ার জন্য শরীরের প্রতি খুব যত্ন নিতেন তিনি।

তিশা বলে, ‘অনেকেই বলত আপা দেখতে সুন্দর না। আপা বলতেন, “দেখিস একদিন আমা’র চেহারা আরও সুন্দর হয়ে যাব’ে। তখন আরও কাজ বাড়বে।” আপা বলতেন, আর পাঁচ–ছয় বছর আমা’দের ক’ষ্ট করতে হবে। এরপর আমা’দের আর ক’ষ্ট থাকবে না।’ অনেক দিন ধরে ধারদেনা করে গাজীপুরের বোর্ডবাজারে ছোট একটি বাড়ি বানাচ্ছিলেন আশার বাবা আবু কালাম। সেই বাড়ির কাজ এখনো বাকি। ধীরে ধীরে টাকা জমিয়ে বাড়ি বানাতে সহযোগিতা করছিলেন আশা। আবু কালাম জানান, ক’রো’না তাঁর ব্যবসা কেড়ে নিল, ট্রাক কেড়ে নিল মেয়েকে। তিনি বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে কীভাবে চলব, সেটাই বড় চিন্তা। আমি চাই সেই একজন (শামীম আহমেদ) তো থানায় আছে। পু’লিশ এখন ট্রাকচালককে ধ’রার চেষ্টা করুক।’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*