মেঘনা বিভাগের ঘোষণায় নোয়াখালীতে হতাশা

২০১৫ সাল থেকে নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে নিয়ে ‘নোয়াখালী বিভাগ’ গঠনের দাবিতে মানববন্ধন, সমাবেশসহ নানা আন্দোলন চালিয়ে আসছে নোয়াখালীর রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সাধারণ জনগণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন ঐক্য মঞ্চের নেতারা। মেঘনা বিভাগ করার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় হতাশ নোয়াখালীবাসী। জেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

নোয়াখালীবাসীর বক্তব্য, বৃহত্তর কুমিল্লাকে যে নামেই বিভাগ করা হোক, তা খন্দকার মোশতাককে উৎসর্গ করা হবে। তাই বিভাগ হতে হবে নোয়াখালী জেলার নামে। কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের নবনির্মিত অফিস ভবনের উদ্বোধনী আয়োজনে বৃহস্পতিবার দুপুরে গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বৃহত্তর ফরিদপুর ও কুমিল্লাকে নিয়ে দেশে আরও দুটি বিভাগ হবে। তবে বিভাগ দুটি কোনো জেলার নামে হবে না; হবে দেশের প্রধান দুটি নদী পদ্মা-মেঘনার নামে।

যুক্তি দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতা যুদ্ধের ‘তোমার আমার ঠিকানা/পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’ স্লোগানের আদলে নদীর নামে হবে এই বিভাগ দুটির নাম। সে ক্ষেত্রে ফরিদপুর বিভাগের নাম হবে ‘পদ্মা’ আর ‘মেঘনা’ হবে কুমিল্লা বিভাগের নাম।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কুমিল্লা নামে বিভাগ দেব না। কারণ কুমিল্লা নামের সঙ্গে মোশতাকের নাম জড়িত। ওই কুমিল্লা নাম নিলেই তো মোশতাকের কথা মনে ওঠে।

২০১৫ সাল থেকে নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে নিয়ে ‘নোয়াখালী বিভাগ’ গঠনের দাবিতে মানববন্ধন, সমাবেশসহ নানা আন্দোলন চালিয়ে আসছে নোয়াখালীর রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সাধারণ জনগণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন ঐক্য মঞ্চের নেতারা।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন আন্দোলনের নেতারা বলেন, নোয়াখালীর ভাষাগত বৈশিষ্ট্য বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চল ছাড়িয়ে কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। এ ছাড়া নোয়াখালী জেলার সঙ্গে ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সড়ক ও রেলপথে যোগাযোগ আছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী জেলা হিসেবে নোয়াখালীই বিভাগ হওয়ার দাবি রাখে।

দৈনিক সচিত্র নোয়াখালীর সম্পাদক আমিরুল ইসলাম হারুন বলেন, ‘কুমিল্লাকে মেঘনা নামে বিভাগের প্রস্তাব মেনে নেয়া যায় না। ভাষাগত বৈশিষ্ট্য, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং যোগাযোগব্যবস্থার কারণে বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলকে ঘিরে নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণা চাই।’ লেখক ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহত্তর কুমিল্লাকে যে নামেই বিভাগ করা হোক, তা হবে খন্দকার মোশতাককে উৎসর্গ করা। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নোয়াখালীই বিভাগ হওয়ার যোগ্য দাবিদার।’

মোহাম্মদ হাশেম ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও সাবেক জিপি কাজী মানসুরুল হক খসরু বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বৃহত্তর কুমিল্লাকে মেঘনা নামে বিভাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন। বলেছেন, যদি আশপাশের জেলাগুলো এতে সম্মতি দেয়, তাহলে মেঘনা নামে বিভাগ হবে। সে ক্ষেত্রে আমরা সম্মতি দেব না।’ নোয়াখালী নাগরিক কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া মো. শাহজাহান বলেন, ‘কুমিল্লা কিংবা অন্য কোনো জেলা বিভাগ হোক, এতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু দেশের পুরোনো জেলা নোয়াখালীকে বিভাগ করার প্রশ্নে আপস হবে না।’

নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন আন্দোলন কমিটির সদস্যসচিব শিহাব উদ্দিন শাহীন বলেন, ‘আমরা চাই বৃহত্তর নোয়াখালী ও চাঁদপুরকে নিয়ে নোয়াখালী বিভাগ করা হোক। নোয়াখালী বিভাগের দাবিতে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নোয়াখালীর সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন কৈশোর বলেন, ‘আমি বিভাগ বাস্তবায়নের আন্দোলন থেকে সরে আসছি। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোনো জেলার নামে বিভাগ না করে নদীর নামে বিভাগ করার যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে আমি সমর্থন করি। ‘বিভাগের নেতৃত্বে জনগণের নির্বাচিত কোনো প্রতিনিধি না থাকায় আমি বিভাগে সমর্থন করি না। আমি চাই দেশকে ১০টি প্রদেশে বিভক্ত করা হোক এবং প্রাদেশিক সরকার হোক।

সূত্রঃbd24live.com

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*