মিনি কক্সবাজারের এ রূপ আগে দেখেনি কেউ

টলমল করছে পরিষ্কার পানি, পাড়ে জন্মেছে সবুজ ঘাস। অথচ নেই পর্যটকের দেখা, ঘাটে বাঁধা সারি সারি ট্রলার। পর্যটন মৌসুমে মিনি কক্সবাজার হিসেবে পরিচিত নেত্রকোনার মদন উপজেলার উচিতপুর হাওরের এমন রূপ এর আগে কেউ দেখেনি।

পর্যটকদের আশায় সকাল-সন্ধ্যা বসে থাকে ট্রলার চালকরা। ভাড়া না পাওয়ায় উঠছে না ট্রলার মালিকের জমার টাকা ও ঘাটের ইজারা। অনেকে ঋণ করে ট্রলারের জমা পরিশোধ করছেন। এতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মানবেতন জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘাটে বাঁধা সারি সারি বাহারি রঙের ছোট-বড় নৌকা। করোনা পরিস্থিতি, ঘাটের ইজারা ও ট্রলার ভাড়া বৃদ্ধির কারণে উচিতপুর হাওরে পর্যটকদের আনাগোনা একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে খ্যাত উচিতপুর ট্রলার ঘাট এখন জনশূন্য। লকডাউনে বদলে গেছে এ হাওরের চিরচেনা সেই চেহারা।

উচিতপুর ঘাটে বাঁধা সারি সারি নৌকা

জানা গেছে, হাওর বেষ্টিত মদন উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন বর্ষা মৌসুমে পানিতে নিমজ্জিত থাকে। মাঘান, গোবিন্দ্রশ্রী, গাজীপুর, ফতেপুর, তিয়শ্রিসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে যাওয়ার একমাত্র বাহন নৌকা। এমনকি হাট-বাজারেও যেতে হয় নৌকায়। এ কারণে উচিতপুর খেয়াঘাট পরিণত হয় ট্রলারঘাটে। হাওরাঞ্চল হওয়ায় দিনদিন বাড়তে শুরু করে পর্যটকদের আনাগোনা।

এদিকে, মদন উপজেলার উচিতপুর হাওর হয়ে খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জসহ সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে নৌকাযোগে চলাচল করা যায়। এ কারণে প্রশাসনিকভাবে উচিতপুর ঘাট ইজারা দেওয়া হয়। দিনদিন জনসমাগম বাড়তে থাকায় পর্যায়ক্রমে বাড়ে রাজস্বও।

২০১৭ সালে মদন থেকে খালিয়াজুরী পর্যন্ত শুকনো মৌসুমে চলাচলের জন্য একটি ডুবন্ত সড়ক থাকায় বালই নদীতে নান্দনিক একটি সেতু নির্মাণ করে সওজ। এরপর থেকেই মূলত পর্যটকদের ভিড় বাড়তে থাকে। উচিতপুর হাওর পরিচিতি পায় মিনি কক্সবাজার নামে। এখানকার পর্যটনকে ঘিরে গড়ে ওঠে নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পর্যটনকে ঘিরে ব্যবসা ছড়িয়ে পড়ায় প্রশাসন থেকে বাড়িয়ে দেওয়া হয় রাজস্বের পরিমাণও। যা বাড়তে বাড়তে গত বছর দাঁড়ায় ২১ লাখে এবং এ বছর উচিতপুর ট্রলার ঘাটের ইজারা হয় ৩২ লাখ টাকা। তবে করোনা পরিস্থিতি, গত বছর ট্রলার ডুবে ১৮ পর্যটকের মৃত্যু আর ঘাটের ইজারা বৃদ্ধির কারণে কমে গেছে ট্রলারের সংখ্যাও। এ কারণে মিনি কক্সবাজার খ্যাত উচিতপুর হাওর হারিয়েছে তার চিরচেনা রূপ।

উচিতপুর ঘাটে বাঁধা সারি সারি নৌকা

ইজারাদার লাহুত মিয়ার পক্ষে উচিতপুর ঘাটে টাকা উত্তোলনকারী মিজানুর রহমান বলেন, গত বছর থেকে কোনো কামাই নেই কিন্তু ঘাটের ইজারা বেড়েই যাচ্ছে। করোনার আগে ১০ লাখ থেকে ১৮ লাখ পর্যন্ত ইজারা ছিল। এখন ইজারা ৩২ লাখ টাকা, পর্যটক না থাকায় ট্রলার চালকরাও আছে নিদারুণ কষ্টে। ঘাটে এক সময় ৩০০-৩৫০টি নৌকা চলতো। প্রতিদিন চালকদের হায় হতো ১০০০-১৫০০ টাকা। এখন ট্রলারের সংখ্যা ৫০টিরও কম, নেই পর্যটকের দেখা। আয় না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে উচিতপুর ঘাট সংশ্লিষ্টদের।

মদনের ইউএনও বুলবুল আহমেদ বলেন, পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন আবার ট্রলার চালকরা পুরোদমে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে।

সূত্রঃডেইলি বাংলাদেশ

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*