১৪ বছর বয়স থেকেই পান্নাকে ভোগ করতো মোবাশ্বির, ক্ষোভে করলো লাশ

পান্নার বয়স যখন মাত্র ১৪ বছর, তখন থেকেই তার প্রতি কুনজর ছিল আব্দুল হক মোবাশ্বিরের। ৫৯ বছর বয়সী এই বৃদ্ধা পান্নাকে স্ত্রীর মতো ভোগ করে আসছিলেন; কয়েকবার গর্ভপাতও ঘটে। এসব অত্যাচার সহ্য না করতে পরেই মোবাশ্বিরকে খুন করেন ওই তরুণী (বর্তমান বয়স ১৯)।

গ্রেফতারের পরপরই রোববার পান্না বেগম পুলিশকে খুনের ঘটনা বলেন। এর পরপরই আদালতে গিয়ে হত্যার কারণসহ সব রহস্য স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। সিলেট মহানগর পুলিশের মুখপাত্র বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের এ তথ্য জানিয়েছেন।

১৯ বছরের তরুণী পান্না বেগম আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তিনি আদালতে জানান- আপত্তিকর ভিডিও ধারণের পর জিম্মি করায় তিনি মোবাশ্বিরকে খুন করেন।

পান্না তার স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, মোবাশ্বির আপাদ-মস্তক একটা লম্পট। মদ খেয়ে নারী নিয়ে ফুর্তি করাই ছিল তার নেশা। মাত্র ১৩-১৪ বছর বয়সে আমাকে যৌন নিপীড়ন শুরু করে। এরপর সেসব অপকর্মের ভিডিও রেকর্ড করে রাখে মোবাইলে। ওই ভিডিও দেখিয়ে জিম্মি ও পরবর্তীতে বিয়ে করে বিদেশে নেয়ার আশ্বাস দিয়ে স্ত্রীর মতো ভোগ করতে থাকে।

পান্না তার স্বীকারোক্তিতে জানান, বয়সবৈষম্য, নিজের স্ত্রী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও মোবাশ্বির তাকে নানা প্রলোভনে বিয়ে করেন। অথচ প্রায় ৫ বছরেও তিনি সামাজিকভাবে স্ত্রীর স্বীকৃতি দেননি। দুই দফায় গর্ভের সন্তান নষ্ট করে ফেলে। অথচ লন্ডনে সন্তান রেখে আসা প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করছেন। বিয়ের পরও স্ত্রীর মর্যাদা না পেলে তাকে রেখে লাভ কী, এমন ধারণা থেকে মোবাশ্বিরকে খুন করেন পান্না।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায় মোবাশ্বিরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মোবাশ্বিরের বড়ভাই মুহিবুল হক দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা দায়ের করেন। মোবাশ্বির লন্ডন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবেদ রাজা ও সিলেট জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম তালাত আজিজের মেজো ভাই। মোবাশ্বিরও লন্ডনে থাকতেন। গত কয়েক বছর তিনি দেশে অবস্থান করছিলেন লন্ডনে স্ত্রী-সন্তান রেখে।

সূত্রঃডেইলি বাংলাদেশ

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*